Skip to content

আশার আলোই একদিন শিক্ষার্থীদের উন্নত জাতি গঠনে স্বর্ণশিখরে পৌঁছাবে


বিল্লাল হোসেন
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতির চরম স্বর্ণশিক্ষরে পৌঁছাতে পারেনা। তাই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ও আলোকিত মানুষ গড়তে, নরসিংদীর পলাশে একদম অজপাড়া গাঁয়ে মালিতা নামক স্থানে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আশার আলো বিদ্যানিকেতন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কার্যক্রম শুরু করা হয় ২০২৩ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১২জন শিক্ষকসহ রয়েছেন প্রায় ২৫০জন শিক্ষার্থী।
জানা যায়, আশেপাশে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পূর্বে হারিদোয়া নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হতো ৩ কিলোমিটার সাধারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে, উত্তরে ৪ কিলোমিটার তৌহিদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে খানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কষ্ট করে যেতে হতো। আর স্কুলগুলো দূরত্ব বেশি হওয়ায় কিছু কিছু শিশু শিক্ষার্থীরা যেতেও চাইতো না। সবদিক চিন্তা করে মালিতা লোহারকান্দা গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাণুরাগী আক্তার আলম প্রাথমিক ভাবে ৭০ শতাংশ জমি ক্রয় করে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন আশার আলো নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আশার আলো বিদ্যানিকেতনের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে পায়ে হেটে কষ্ট করে বহুদূরে যেতে হতো নিজ গ্রামে স্কুল হওয়ায় আমরা খুব খুশি। আর কষ্ট করে দূরে যেতে হয় না।
১ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, বিভিন্ন খেলাধূলার সরঞ্জাম থাকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলা করতে পারি। শিক্ষকরাও আমাদের আদর করে, আমরাও ঠিক মতো পড়াশোনা করি।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, ভালো শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা ভালো মানের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। নতুন বছরে নতুন বইয়ের পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রেরণার ও উৎসবের। আমরা চাই বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাক আরও বহুদূর।
অন্য আর একজন অভিভাবক জানান, প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকমন্ডলী সুশিক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ভ্যানের ব্যবস্থা করেছে। শুনেছি দশম শ্রেণী পর্যন্ত চালু হবে, চালু হলে এই এলাকার শিক্ষার্থীদের দূরের স্কুলে যেতে হবে না আমার বিশ্বাস এই এলাকার শিক্ষার হার বেড়ে যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা লিমা বলেন, এই এলাকায় শিক্ষার হার আরো বাড়বে। আলোকিত হবে মানুষজন। পাঠদানের পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই যোগ্য নাগরিক হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মালিতা লোহারকান্দা গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাণুরাগী আক্তার আলম বলেন, এলাকার মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ মহোদয়ের পরামর্শক্রমে একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছি।
আশার আলো নামকরণ করা হয়েছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবেগ তাড়িত কন্ঠে জানান, আমার একটি প্রতিবন্ধী মেয়ে ছিল যার নাম আশা। সে নরসিংদীর ভালো একটি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। প্রতিবন্ধী বলে কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করনি। অসুস্থ অবস্থায় একদিন সে আমাকে বললো, বাবা তুমি আমাদের গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করো। যেখান থেকে কোন প্রতিবন্ধীকে ফেরত দেওয়া হবেনা। তারা শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জীবন গড়ে তুলবো।
তিনি আরো বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৭০ শতাংশ জায়গা থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে আরও ৬০শতাংশ জায়গা ক্রয় করবো। আগামী নতুন বছরে অষ্টম ও পরের বছর দশম শ্রেণিতে উন্নীত করবো। ভবিষ্যতে কলেজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার মানুষ আমাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। আগামীদিন এই এলাকার মানুষ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। একজন প্রতিবন্ধীর মনোবাসনা পূর্ণ হবে, প্রতিষ্ঠানটি আজীবন বেঁচে থাকবে এটিই আমার চাওয়া।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫