সিনিয়র রিপোর্টার, কাশিমপুর ঘুরে এসে:
থমকে গেছে কাশিমপুরের অপসাংবাদিকতা, স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। ভুয়ারা হাতে ব্যুম, গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে যত্রতত্র যে চড়াও হতেন- তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দল বেঁধে মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারযোগে তাদের দাপিয়ে বেড়াতেও দেখছেন না বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম সপ্তাহেই অবৈধ ইটভাটা, নকল কারখানা, বনভূমিসহ সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা শিল্প – বাণিজ্য স্থাপনা, মাদক আখড়ার মাসোহারা আদায়ে ছোটাছুটি চলে ভুয়াদের। কিন্তু চলতি মাসে তাদের কোনরকম দৌরাত্ম্য চোখে পড়ছে না। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট দল উপদলে বিভক্ত হয়ে যত্রতত্র মাস্তানি কায়দায় হানা দিতো, তাদের চাঁদাবাজিতে জনজীবন অতিষ্ঠ ছিল রীতিমত।
কিন্তু গেল সপ্তাহে দৈনিক বাংলাভূমি পত্রিকায় ‘কাশিমপুরে সাংবাদিকতার নামে কতিপয় প্রতারকের অপরাধ অপকর্মের নানা কাহিনী’ প্রকাশ করে। এ নিয়ে কাশিমপুরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, গোটা জেলা জুড়ে চলে সমালোচনার ঝড়। গাজীপুরের জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসন ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ নড়েচড়ে বসে, ভুয়া চক্রের অপরাধ প্রতারণার ব্যাপারে সজাগ থাকতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুরে সাংবাদিকতার নামে হুমকি-ধমকি, চাঁদাবাজি, প্রতারনামূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ, জড়িতদের নাম পরিচয়, দলীয় সম্পৃক্ততা ইত্যাদি খতিয়ে দেখতে এরইমধ্যে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে চিহ্নিত প্রতারকদের অপরাধ বিবরণ, জিডি-মামলার তথ্যাদি নির্দিষ্ট ছক আকারে পাঠানোর জন্য কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জকেও বলা হয়েছে।
কাশিমপুর থানাজুড়ে এই চক্রের দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতেন। প্রতারক চক্রের হুমকি-ধমকি, মিথ্যা সংবাদ তৈরির ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বখড়াবাজিতে নাভিশ্বাস উঠে এলাকাবাসীর।দৈনিক বাংলাভূমিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় বিদ্যমান সে বেহাল চিত্র বদলে গেছে। তবে সচেতন বাসিন্দারা কেউ কেউ বলেছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, বাংলাভুমির ফলাও প্রতিবেদন প্রকাশের পর চক্রের কয়েক সদস্য গা ঢাকা দিয়েছে, বাকিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই আবার পুরোনো অপকর্মে মেতে উঠবে তারা।
কাশিমপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাংলাভূমির সাহসী ভূমিকাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাশিমপুর যেন আবার অপসাংবাদিকতার করালগ্রাসে না পড়ে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।
