দিপংকর রায় দিনাজপুর বুর্যো :
প্রায় ৩২শ একর এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা প্রাচীন ধর্মপুর শালবনের কৈকুড়ী পাটাবন এলাকায় সন্ধান মিললো প্রায় শতাধিক খুদি খেজুর/বন খেজুর গাছের। এই প্রাকৃতিক শাল বনটি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত এলাকা ধর্মপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ধর্মপুর শাল বনে খুদে খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি বন কর্মকর্তা মহসিন আলী প্রকাশ করায়। এখন গাছ গুলোকে এক নজড় দেখার জন্য ছূটে যাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। উচ্চতায় প্রায় ৩ ফুটের এই গাছ গুলোতে খেজুর ধরেছে থোকায় থোকায়।
বাংলাদেশে এই গুলোকে খুদি খেজুর নামে ডাকা হলেও মূলত বিজ্ঞানিক নাম ফনিক্স অ্যাকুলিশ। পৃথিবীতে এই খুদি খেজুরের আদি নিবাস ভূটান, ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। একেবারেই বিলুপ্ত এই খুদি খেচুর গাছ গুলো ধর্মপুর শাল বনে সন্ধান পাওয়া গেলেও বাকি আদি তিন নিবাসে (দেশে) একেবারেই বিলুপ্ত। ধর্মপুর শাল বন কর্মকর্তা মোঃ মহসিন আলী বিলুপ্ত এই গাছ গুলোর সন্ধান পাওয়ার পরই। খেজুর গাছ পরিদর্শনে আসেন পরিবেশ বন ও জলবায়ুু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইবেরিয়াম এর ঊর্ধ্ববর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ গাজী মোশারফ হোসেন, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মান্নান হোসেন। পরিদর্শনের পর উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা , বিলুপ্ত এই খুদি খেজুর বা বন খেজুর গাছ গুলো সারা বাংলাদেশের মধ্যে শুধুমাত্র এই বিরল উপজেলার ধর্মপুর ফরেস্ট এলাকায় পাওয়া গেছে। পরিবেশের জন্য এটির গুরুত্ব অপরিসীম এটিকে সংরক্ষণ করার জন্য সরকার তথা বন বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া বলে জানান। ধর্মপুর শাল বন কর্মকর্তা মোঃ মহসিন আলীর সাথে যোগাযোগ করলে। তিনি জানান উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা খুদে খেজুর গাছের সন্ধানের খবর পাওয়ার পরই ছুটে এসে পরিদর্শন করেছেন। আগামী জুনের মধ্যেই বিলুপ্ত এই গাছ গুলোকে সংরক্ষণে অঞ্চলটুকু সংরক্ষিত এলাকা করার যাবতীয় প্রক্রিয়া চলমান।
