নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আজহা সামনে রেখে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ‘bd online shop’ নামে ভুয়া অনলাইন ব্যবসার ছদ্মবেশে এই চক্র প্রতিদিন শত শত সাধারণ গ্রাহককে প্রতারিত করছে।
প্রতারণার ধরন বেশ পরিকল্পিত। এই চক্রটি বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানি পাঞ্জাবি, দেশি শাড়ি, থ্রি পিসসহ ঈদ উপলক্ষে আকর্ষণীয় পোশাকের ছবি ও লোভনীয় অফার পোস্ট করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। এদের ফেসবুক পেইজ ও হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্টে থাকছে পেশাদার বিজ্ঞাপন ও কাস্টমার সার্ভিসের ছদ্মাবরণ।
একজন ভুক্তভোগী জানান, তিনি একটি শাড়ি অর্ডার করার পর তাকে “বুকিং ফি” হিসেবে বিকাশে ১৫০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরবর্তীতে পণ্য পাঠানোর নামে আবারও ওটিপি কোড সংগ্রহ করতে বলা হয় এবং বাকি টাকা চাওয়া হয়। এরপর থেকেই পেইজের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। এভাবেই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন।
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, প্রতারকরা প্রতিনিয়ত প্রোফাইল ও পেইজের নাম, ছবি এবং নম্বর বদলে ফেলে, যাতে তাদের ট্রেস করা কঠিন হয়। ফলে প্রতারণা চলছেই নির্বিঘ্নে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। কোনো পণ্যের অর্ডার দেওয়ার আগে ব্যবসার সত্যতা যাচাই, নির্ভরযোগ্য রিভিউ পড়া এবং বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ পাঠানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতারকদের ধরতে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিছুদিন আগেও অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করার অভিযোগে বেশ কয়েকটি চক্রকে আমরা গ্রেফতার করেছি। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সন্দেহজনক পেইজ ও নম্বরের স্ক্রিনশটসহ তথ্য সরবরাহ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
