Skip to content

অসন্তোষ বাড়ছে মহাজোটে

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠছে। সেই ২০০৪ সালের ক্রান্তিকাল থেকে এ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে থাকলেও নেতাদের মূল্যায়ন না করা, জোটকে সুসংগঠিত না করা, নামকাওয়াস্তে বৈঠক করে আশ্বাসের ঝুলি বাড়ানোসহ প্রভৃতি কারণে দিনকে দিন মহাজোটে অসন্তোষ বাড়ছে। এ ছাড়া নবম সংসদে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী দিয়ে শরিকদের সন্তুষ্ট রাখলেও বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এমনকি মহাজোট সরকারে সংরক্ষিত আসনের এমপি পদ পেলেও এবার তা কেড়ে নেয়া হয়েছে। আশা জিইয়ে রাখায় মহাজোটের বেশির ভাগ শরিক দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এতে জোটের অনেক নেতা বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বাদ দিয়েছেন। আবার অনেকেই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতাসীনদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। এ দিকে ক্ষমতাসীনদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে না পেরে কেউ কেউ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাথে জোট বাঁধছেন। আবার কেউ কেউ তৃণমূলের চাপ মাথায় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। শরিকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করাটা সামনে আওয়ামী লীগের জন্য আরো হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট গঠনের শুরুর দিকে সেই ২০০৪ সাল থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গী হয়েছেন নূরুর রহমান সেলিমের গণতন্ত্রী পার্টি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠন করলে একমাত্র সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ পায় গণতন্ত্রী পার্টি। গত ৫ জানুয়ারির বিনাভোটের নির্বাচনে কয়েকজন এমপি প্রার্থী থাকলেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তা ছাড়া আগের একমাত্র নারী এমপির পদটিও এবার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সরকারের ছয় মাস কেটে গেলেও আশ্বাসের ওপরই ভর করছে এ দলটি। সরকারে মূল্যায়ন না করায় ইতোমধ্যে গণতন্ত্রী পার্টিতে জোটে থাকা না থাকা নিয়েও অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়েছে। মূল্যায়ন না করায় ইতোমধ্যে মহাজোটের একাধিক বৈঠকেও অনুপস্থিত রয়েছে গণতন্ত্রী পার্টি। দলের সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম নয়া দিগন্তকে জানান, বৈঠকে যাচ্ছি না, তার মানে এই নয় যে জোটে নেই। প্রয়োজন হলে অবশ্যই বৈঠকে অংশগ্রহণ করব। তিনি বলেন, জোটে আছি, থাকব। তবে যথাযথ সম্মান নিয়ে থাকতে চাই।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া। মহাজোট সরকারের আমলে তিনি টেকনোক্র্যাট শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে সক্ষম হলেও এবার মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়েন দিলীপ বড়–য়া। বিনাভোটের নির্বাচনে দু’জন এমপি প্রার্থী থাকলেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। সেই থেকে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে রয়েছেন সাবেক এই মন্ত্রী। এবার সরকার গঠনের শুরুতেই আশ্বাস দিয়ে আসছেন সময়মতো মূল্যায়ন করা হবে। এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে না পেরে সাম্যবাদী দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র হয়ে একটি অংশ ইতোমধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের সাথে হাত মিলিয়েছে। দিলীপ বড়–য়া নয়া দিগন্তকে জানান, আগের মন্ত্রিসভায় ছিলাম, এখন নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ তো অবশ্যই আছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী সময়মতো মূল্যায়ন করবেন।
গত ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়। জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টির মতো শরিকদের অন্যরাও চান সরকারে প্রতিনিধিত্ব করতে। বিশেষ করে বাসদের রেজাউর রশিদ খানের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। ছয় মাস কেটে গেছে, এখনো মূল্যায়ন না করায় তোপের মুখে পড়েন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরেকটু ধৈর্য ধরার আহবান জানান জোট নেতাদের। গত নির্বাচনে ছয়জন এমপি প্রার্থী থাকলেও একজনকেও মূল্যায়ন করা হয়নি। সেই থেকে তৃণমূলপর্যায়ের নেতাদের চাপের মুখে রয়েছেন বাসদের আহবায়ক রেজাউর রশিদ খান। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, তৃণমূলের চাপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আগেই অবহিত করেছি। সরকারে যদি আমাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকে তাহলে তৃণমূলের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রেজাউর রশিদ খান বলেন, শরিকদের মধ্যে যে দলগুলো সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে তাতে বাসদও প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার রাখে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশা করি।
১৪ দলের আরেক শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। গত নির্বাচনে ছয়জন এমপি প্রার্থী থাকলেও কাউকেই মূল্যায়ন করা হয়নি। সংরক্ষিত নারী আসনে মাত্র একটি পদ দিয়ে ঠাণ্ডা রাখা হয়েছে এ দলটিকে। এর আগে সরকারের কোনো প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়নি ন্যাপ। এ দিকে ছয় এমপি প্রার্থীর কাউকেই মূল্যায়ন না করায় তৃণমূলপর্যায়ে চলছে ক্ষোভ ও হতাশা। অনেক নেতা জোট ছাড়ার জন্য শীর্ষ নেতাদের চাপ প্রয়োগ করছেন। ন্যাপের সহসাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, জোটে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় তৃণমূলপর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো সামনে আর ঠেকানো যাবে না। একইভাবে বঞ্চিত হয়েছে কমিউনিস্ট কেন্দ্র। মহাজোট সরকারে যেমন তারা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়নি, এবারো উপেক্ষিত রয়েছে এ দলটি। এমপি-মন্ত্রী না পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করছেন বলে স্বীকার করেছেন কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা: ওয়াজেদুল ইসলাম। একইভাবে সরকারে জায়গা পায়নি গণ আজাদী লীগ ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি। এদেরও তৃণমূলপর্যায়ে রয়েছে নানা কথা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে চান গণ আজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক সমীর শিকদার। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা আছে। সেই আস্থার মূল্যায়ন সময়মতো করবেন, এটা আশা রাখি।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির একজন মন্ত্রীসহ ছয়জন এমপি এবং জাসদে একজন মন্ত্রীসহ কয়েকজন এমপি রয়েছেন। জোটে নতুন যুক্ত হওয়া জাতীয় পার্টি-জেপি মঞ্জু ও তরীকত ফেডারেশনও মন্ত্রীসহ কয়েকটি এমপি পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। বঞ্চিত অন্য শরিকরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে কিংবা জেলা পরিষদে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালেও উপেতি রয়েছে। ১৪ দলের অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা হুট করে বৈঠক ডাকেন। কোনো এজেন্ডা পর্যন্ত জানানো হয় না। গতানুগতিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে একটি ব্রিফিং করা হয়। তারপর ছোট্ট একটি ভোজ বিলাস করে বিদায়। বৈঠকে ঠিকমতো চেয়ারও পান না শরিক দলের নেতারা। এ নিয়ে একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব পুঞ্জীভূত ােভের কারণে কয়েকজন শীর্ষ নেতা অভিমান করে বৈঠকে আসেন না, আবার অনেকেই অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এ দিকে শরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষসহ নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫