স্টাফ রিপোর্টার ॥
মানুষ্যবিহীন খেলনা ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি বলে প্রতীয়মান হওয়ায় অনেক দেশেই ড্রোন চালনার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তা সত্ত্বে¡ও ড্রোনের ব্যবহার কমেনি। বাংলাদেশেও ড্রোন চালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে খেলনা ড্রোন চালনার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করে বলা হয়েছে এধরনের পণ্য আমদানীর ক্ষেত্রে যাত্রী বা আমদানীকারককে আগাম ঘোষণা দিতে হবে। এজন্য শুল্কও আরোপ করা হয়েছে পণ্যটিতে। ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৬ মাসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩৭০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত অব¯’ায় এগুলো জব্দ করা হয়। বর্তমানে এগুলো ঢাকা কাস্টমস হাউজের ২ নম্বর সরকারি গুদামে জমা রাখা হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার (বিচার) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, ব্যাগেজ আইনে ড্রোন আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জব্দকৃত ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হবে। তার আগে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে জব্দকৃত ড্রোনগুলো বিপদজ্জনক ড্রোন নাকি খেলনা ড্রোন।
ড্রোন দুভাবে চালনা করা হয়ে থাকে। কম্পিউটার ও রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে। ড্রোনের বিভিন্ন সাইজ ও সেফ রয়েছে। সামরিক বাহিনীতে এর ব্যবহার রয়েছে। নজরদারির জন্য এই ড্রোনের ব্যবহার হয় সেনাবাহিনীতে। ১৫ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে এই মনুষ্যবিহীন যানটি।
ড্রোন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা হুমকি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলনা ড্রোন অনেক ক্ষেত্রেই বিপদজ্জনক। বিশেষ করে এই খেলনাটি যখন সন্ত্রাসী বা জিহাদি গোষ্ঠী অপব্যবহার করে। শীর্ষ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস) ড্রোন ব্যবহার করে সিরিয়া ও ইরাকে সরকারি সেনাদের উপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মিরর পত্রিকা জানিয়েছে, সিরিয়ার আনবার প্রদেশে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোনকে সার্জেন্ট হোসেন মুসা ভূপাতিত করেছেন।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে হিথ্রো বিমানবন্দরের আকাশে বৃটিশ এয়ারওয়েজের বিএ-৭২৭ বোয়িংকে আঘাত করে একটি ড্রোন। বিমানটি ১৩২ জন যাত্রী নিয়ে জেনেভা থেকে হিথ্রো আসছিল। বিমানের পাইলট বলেছেন, হিথ্রোর আকাশে থাকাকালে একটি শক্ত ব¯‘ তার বিমানের সম্মুখভাগে আঘাত করে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর দেখা যায় একটি খেলনা ড্রোন বিমানটিতে আঘাত করেছিলো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাইলটরা খেলনা ড্রোনের অবাধ চালনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত অক্টোবর মাসে ভারতীয় বেসরকারি বিমান সং¯’া ইন্ডিগো’র একটি বিমান দেরাদুন থেকে মুম্বাই আসার পথে খেলনা ড্রোনের কবলে পড়েন। বিমানটি অবতরণের সময় তিনি তার বিমানের নিচে একটি ড্রোন দেখতে পান। পাইলট আশিষ রঞ্জন তাৎক্ষণিক ঘটনাটি বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন চালনার আধিক্য সবচেয়ে বেশি। সেকারণেই ড্রোনের মালিকদের রেজিস্ট্র্রেশন করতে বলা হয়েছে। অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ড্রোন আকাশে উড়ানোর ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ জারি করেছে।
