Skip to content

রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইন সফরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত পেতে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল।

গতবছর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ওই ৮১ মিলিয়ন (৮ কোটি ১০ লাখ) ডলার হাতিয়ে নেয় ফিলিপাইনের হ্যাকাররা। বিশ্বের বৃহত্তম এ রিজার্ভ চুরির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন-এর সঙ্গে কথা হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের। তিনি বলেন, ফিলিপাইনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাকি অর্থ ফিরে পেতে নানা উপায়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইনের আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন-সহ আরও অনেকের সঙ্গে আলোচনা হবে তাদের।

লন্ডন থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, পুরো অর্থ ফ্রিজ করা হয়েছেৃ আমরা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার চেষ্টা করছি।

বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রিজার্ভ চুরির এই ঘটনাটি ঘটে ৫ ফেব্রুয়ারি। তবে বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে প্রায় এক মাস পর। এরপর ফিলিপাইনের তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে নতুন নতুন তথ্য। ফিলিপাইনের দৈনিক পত্রিকা ইনকোয়ারার এর প্রতিবেদন অনুযায়ী- চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজার্ভ ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার শাখায় ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেখান থেকে অর্থের বড় অংশ চলে যায় দেশটির ক্যাসিনোতে (জুয়ার আসরে)। আবার ক্যাসিনোতেও সেই অর্থ ছিল ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ আরও ২০ দিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০০ কোটি ডলার সরাতে মোট ৩৫টি অনুরোধ পায় নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ। এর প্রথম চারটি অনুরোধে তারা ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করে। এরপর স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়ে ওই টাকার প্রায় অর্ধেক চলে যায় ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে। পঞ্চম আদেশে শ্রীলঙ্কায় প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে একটি ‘ভুয়া’ এনজিও’র অ্যাকাউন্টে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হলেও বানান ভুলে সন্দেহ জাগায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।

অর্থ চুরি যাওয়ার বিষয়টি প্রায় এক মাস চেপে রাখায় সমালোচনার মধ্যে পড়েন তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার পর পরই বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে অবহিত করলে টাকার শতভাগ উদ্ধার করা সম্ভব হতো। ঘটনাটি ঘটনার পর পরই সরকারকে জানালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে টাকা উত্তোলন বন্ধ করা যেতো। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সরকারকে জানাতে চায়নি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের। ঘটনার এক মাস ৯ দিন পর পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। পরে সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

ওই দিন বিকালে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তথ্য অনুযায়ী- গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ই-মেইল পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করতে ফেডারেল ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ককে বলা হলেও সুইফট সিস্টেমের মাধ্যমে বেরিয়ে ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে চলে যায় ১০ কোটি ডলার। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার আটকানো হলেও ফিলিপিন্সে যাওয়া অর্থ চারটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তোলার পর অধিকাংশই চলে যায় ক্যাসিনোতে। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫