Skip to content

“ওপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট”

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-২ এর দ্য ক্যাপিটাল রিক্রেশান ক্লাবের অবস্থা “ওপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট”। সেখানে ঢুকতেই চোখে পড়বে নোটিস বোর্ড। কড়া ভাষায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশন কোনোটাই করা যাবে না। পোশাক পরিচ্ছদের বিষয়েও দেওয়া হয়েছে বিধি-নিষেধ। দেয়ালে ঝুলছে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ছবি। এরা সবাই এই ক্লাবের সদস্য। সদস্য ব্যতীত কেউ ক্লাবে ঢুকতেও পারেন না। অভিজাত মানুষের ক্লাব বটে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ক্লাবের দরজার সামনে যেতেই র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীদের জটলা। জটলা পেরিয়ে সামনে এগুলেই পুরো করিডর জুড়ে সাজিয়ে রাখা আছে প্রায় চার হাজার অ্যালকোহলের বোতল। কিন্তু এ কী কথা, বাইরে যে নোটিস বোর্ডে ঝুলছে, নো অ্যালকোহল! ভদ্রতার আড়ালে শহরের অভিজাত ক্লাবগুলোতে এভাবেই চলছে মাদকদ্রব্য সেবন ও ব্যবসা।
জঅইথঙনযরলধহ
দেয়ালে সেটে আছে ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কে এম মঞ্জুরের ছবি। আরো আছে সাবেক দুই সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এমপি ও ড. মো. মুরাদ হোসেন এমপির ছবি। ক্লাবটির বর্তমান সেক্রেটারি হিসেবে নাম ঝুলছে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আকরাম হোসেনের নাম। এতসব গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ক্লাব অথচ বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে চলছে মাকদ্রব্যের ব্যবসা!

করিডরের পাশের রুমেই হাতকরা পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে ক্লিনার শামীমকে।
জঅইথঙনযরলধহথ২
রাতে র‌্যাবের অভিযান পরিচালনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে তাকে। নোটিস বোর্ডে অ্যালকোহলের নিষেধাজ্ঞা ও এর বিপুল মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলে সরল উত্তর, আফা এই গুলানতো আমরা জানি না। স্যারেরা জানেন। আমিতো এইহানের ক্লিনার। প্রতিদিনই ক্লাবের মেম্বাররা এখানে আসেন ও তারাই এইগুলা খান।

ক্লিনার শামীম ছাড়াও আটক করা হয়েছে সুজিত, মুনির, আলমসহ মোট পাঁচ জনকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্লাবটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০০।
ক্লাবের আড়ালে এখানে মাদকদ্রব্য ব্যবহার হতো বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের অভিযান পরিচালনাকারী দলটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
জঅইথঙনযরলধহ
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য কেনাবেচার কোনো লাইসেন্স ক্লাবটির না থাকা সত্ত্বেও এরা মাদক দ্রব্যের বিশাল মজুদ রেখেছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করেছি। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারপরেই মূল হোতাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্লাবটির একটি সূত্রে জানায়, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে মেম্বাররা এখানে আসতে থাকেন। শুধু তারা একাই নয়, তাদের সঙ্গে আসেন আরো অনেক অতিথি। এরপর মাদকদ্রব্য সেবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। আর মেম্বারদের অতিথিদের তালিকায় বেশিরভাগই থাকে উঠতি তরুণ-তরুণীরা।
জঅইথঙনযরলধহথনম
র‌্যাব সূত্র থেকে জানা যায়, ক্লাবটির লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে কেবল মাত্র রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কাজের জন্য। যেখানে অ্যালকোহল জাতীয় যে কোনো জিনিসই অবৈধ।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা থেকে র‌্যাব-এর একটি দল ক্যাপিটাল রিক্রেশান ক্লাবে অভিযান শুরু করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে সেখান থেকে জব্দ করা হয় বিয়ার, হুইস্কি, ভোদকাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫