হাজী ফারুক সরকার ॥ জয়দেবপুর রেলষ্টেশনে টিকিট চেকিং এর নামে যাত্রীদেরকে হয়রানির অভিযোগ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। প্রতিদিন এ ষ্টেশন দিয়ে প্রায় ২০টি আন্তনগর ট্রেন যাতায়াত করছে। দিনদিন ট্রেন যাত্রীর সংখ্যা আগের তুলনায় অধিক। কেননা ট্রেনের যাত্রা যেমন নিরাপদ, তেমনি সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী। ইন্টারসিটি ট্রেনের কোন যাত্রী কোন না কোন কারণে টিকিট না করতে পারলে সেই যাত্রীর ভোগান্তির অন্ত থাকেনা জয়দেবপুর ষ্টেশনে। যেমন, যাত্রী যেই ট্রেনের, সেই ট্রেন, যে ষ্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করলো সেই ষ্টেশন হতে জয়দেবপুর পর্যন্ত যাত্রীকে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি গুণতে হয়। কিন্তু সেই পরিশোধিত ভাড়া সরকারের কোষাগারে জমা হওয়ার কোনো নজির নেই। যাত্রী কোন না কোন কারণে বেশি ভাড়া দিতে না চাইলে তাকে পকেট হাতিয়ে নেয়ার দৃশ্য অহরহ। তাও সম্ভব না হলে তাহার হাতের মোবাইল পর্যন্ত জরিমানা হিসেবে রেখে যেতে হয়। অন্যথায় তাহার উপর হাত উঠাতেও ভুল করেনা রেলের জিআরপি, আরএনবি, পয়েছম্যান, পোটার, ইলেকট্রিশিয়ান যদিও তাদের কারোরই এ দায়িত্ব না। তাই দায়িত্বহীন মানুষ যখন দায়িত্ব পালন করে নিজ উদ্যোগে সেই দায়িত্ব কতটা সুন্দর ও সাবলীল হতে পারে তা আমাদের সহজেই বোদগম্য। টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ যে টাকা আদায় হয় তার কোনো রশিদ কাউকে-ই দেয়া হয় না। তাই এ টাকা কিছু অসৎ দায়িত্বহীন কর্মচারীর পকেটস্থ হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। টিকিট না করা যাত্রী টাকা দিয়ে রশিদ চাইলে দ্বিগুণ টাকা পরিশোধের চাপ দেয় নতুবা জেলের ভয় দেখানো হয়।
জয়দেবপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বে টিকেট কালেক্টর (টিসি) রফিকুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিন, নাসির উদ্দিন, আশরাফুল হক, রাব্বী, সুজন সকলেই। কোন মহিলা যাত্রীর টিকিট না পাওয়া গেলে তাহাকে টিসির রুমের ভিতরে নিয়ে দেহ তল্লাসী করা হয়। দেহ তল্লাসীর নামে মহিলাদের সাথে যে আচরণ করা হয় তা মূখফুটে লজ্জায় না বলতে পেরে শুধু চোখের পানি ঝরায়। এ রকম একটি দৃশ্য দেখা যায় গত ২৫ অক্টোবর রাত্র আনুমানিক ৮টায়। কম্পিউটার ট্রেনের দুই যাত্রীর ফাতেমা বেগম ও লাবনী আক্তার। উভয়ই টাঙ্গাইল হতে জয়দেবপুর ষ্টেশনে নামে। সময়ের কারণে দু’জন ট্রেনের টিকিট না করে ট্রেনে চরে, তাদের দু’জনের কাছ থেকেই টিটি (টিকেট চেকার) ট্রেনের ভিতরে টাকা নিয়ে টিকিট দেননি। জয়দেবপুর ষ্টেশনে ফাতেমা এবং লাবনী নামার পর টিসি রাব্বী, রফিকুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, তাদেরকে টিকিট দিতে বললে তারা টিকিট দিতে না পারায় তাদেরকে টেনে হিছরে টিসির রুমের ভিতর আলাদা আলাদা ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। রুম হতে বের হওয়ার পর এ প্রতিবেদক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে- কেন আপনাদের রুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তারা বলেন, আমরা দু’জনেই ট্রেনে টিটিকে টাকা দেওয়ার পরও ১০০ টাকা টিসির রুমে দিয়েছি কিন্তু তারপরও টিসি রাব্বী ও রফিকুল ইসলাম দু জনেই আরো টাকার জন্যে আমাদের দেহ হাত দিয়ে তল্লাসী করে। একথা বলতে গিয়ে ফাতেমা আক্তার অঝর ধারায় কাঁদতে থাকেন। মহিলা যাত্রীদের সাথে এরকম ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। যদিও মহিলা যাত্রীকে তল্লাসীর জন্যে কোন মহিলার টিসি জয়দেবপুর রেলষ্টেশনে নেই।
এ প্রতিবেদক এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট টিসিদেরকে জিজ্ঞাস করলে তাঁরা বলেন, রশিদ দিতে হলে ভাড়ার সাথে ৭০০ টাকা যোগ করতে হয়; এটা সরকারী নিয়ম। তাই আমরা কোন রশিদ দেই না যা টাকা পাই আমরা চা পান খেয়ে ফেলি।
এ ব্যাপারে সিনিয়র টিসি জয়নাল হাজারীর সাথে কথা বললে হাজারী বলেন, যাত্রী হয়রানীর ব্যাপারটা রেল কর্তৃপক্ষের সকলেই জানে। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই।
সাধারণ যাত্রীগণ রেল স্টেশনের এ সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিত্রাণ চায়।
জয়দেবপুর রেলষ্টেশনে টিকিট চেকিং’র নামে যাত্রী হয়রানি
আপডেট :October 29, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
