Skip to content

৪৩ ভিআইপি বাড়িতে হাউজগার্ড ঝুঁকিপূর্ণ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) নিরাপত্তা নিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসব জটিলতা দূর করার সুপারিশ উল্লেখ করে বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছে তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরে গত ১০ই অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে গত ৩১শে আগস্ট ডিএমপি’র কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠি’র সূত্র উল্লেখ করে ওই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়।

চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য ডিএমপি’র দেয়া হাউজগার্ড ও পুলিশ প্রটেকশন সংক্রান্তসহ কিছু জটিলতা নিরসন প্রসঙ্গে। গার্ডরুম ছাড়া বাসার হাউজগার্ড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা শিরোনামে চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসস্থানের নিরাপত্তায় ডিএমপি’র ১২৪টি হাউজগার্ড মোতায়েন রয়েছে। হাউজগার্ড মোতায়েনের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি ভিআইপি বাসভবনে গার্ডরুম থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র ৮১টি স্থানে সংশ্লিষ্ট ভিআইপির বাসভবনে গার্ডরুমের ব্যবস্থা আছে। অবশিষ্ট ৪৩টি স্থানে কোনো গার্ডরুম না থাকায় সার্বক্ষণিক স্থায়ী হাউজগার্ড রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গার্ডরুম ছাড়া ভবনগুলোতে নবাব আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ২ পালায় যাওয়া-আসার মাধ্যমে ফোর্স ডিউটি পালন করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হাউজগার্ডের তিন ভাগের এক ভাগ ফোর্স পালা করে ডিউটিতে মোতায়েন থাকে এবং অবশিষ্ট ফোর্স বিশ্রামসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ব্যারাকে অবস্থান করে। জরুরি পরিস্থিতিতে সব ফোর্স সমষ্টিগতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে পালা করে যাওয়া-আসার মাধ্যমে ডিউটি পালন করলে জরুরি প্রয়োজনে সব ফোর্সকে একত্রে গার্ডে হাজির পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্থায়ী গার্ডরুমের অভাবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনবলের স্বল্পতায় হাউজগার্ডের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গার্ডরুমের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ভিআইপিদের সঙ্গে একাধিকবার পত্রালাপ (চিঠি চালাচালি) করেও এক্ষেত্রে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। গার্ডরুম ছাড়া ভবনগুলোর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফোর্সকে যাতায়াতে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। এ কারণে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পায় না এবং রোদ-ঝড়-বৃষ্টি বজ্রপাতসহ বিরূপ আবহাওয়ায় তাদের দাঁড়ানোর স্থান থাকে না। প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়ার যথাযথ সুযোগ না থাকায় চরম বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে বৈরী কর্মপরিবেশ ফোর্সের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। গার্ডরুম না থাকা সত্ত্বেও ১৩ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হাউজগার্ডের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। যা মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতির আশু উত্তরণ প্রয়োজন।

ভিআইপিদের নিরাপত্তায় পুলিশ বিভাগের প্রটেকশন গাড়ির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে গাড়ি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ডিএমপি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (মন্ত্রী, বিচারপতি ও সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি) যাতায়াতের নিরাপত্তার জন্য ৬৭টি প্রটেকশন টিম নিয়োজিত রয়েছে। যার মধ্যে ৫৭টি পুলিশ গাড়ি, ০৮টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ও দুইটি পুলিশের ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিচারপতিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশনের চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছেন। ভাড়া করা মাইক্রোবাস দিয়ে যেসব ভিআইপিকে প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে, তারা পুলিশ পিকআপের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। যেসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রটেকশনে পুলিশ পিকআপ রয়েছে তারা নতুন এবং ভালো ডবল কেবিন পিকআপের জন্য চিঠি দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রটেকশন গাড়ির ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নতুন করে পুলিশের পিকআপ দিতে চাপ সৃষ্টি করছেন।

ডিএমপি’র চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় ডিএমপি’র গাড়ির সংখ্যা নিতান্তই কম হওয়ায় অপারেশনাল কাজ বিঘিœত হচ্ছে। প্রতিদিন চাহিদার বিপরীতে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় রিকুইজিশন, ভাড়া, অনুদান ও প্রাইভেট ফান্ড থেকে গাড়ি কিনে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। গাড়ির স্বল্পতার কারণে সাম্প্রতিক জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডবিরোধী অভিযানও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ভিআইপি প্রটেকশনের জন্য চাহিদা মতো গাড়ি সরবরাহ করতে না পারায় অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ভিআইপি প্রটেকশনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে গাড়ি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে হাউজগার্ড বা প্রটেকশন ডিউটির চলমান পদ্ধতি বহাল রাখা প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্যাট্রোলিং, চেকপোস্ট, ব্লকরেইড ও তল্লাশি অভিযানের সংখ্যা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তায় বেশি সংখ্যায় অফিসার ও ফোর্স নিয়োগের ফলে নিয়মিতভাবে মোতায়েন যোগ্য ফোর্সের স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। এটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের সক্ষমতা হ্রাস করবে। কাজের পরিধির তুলনায় ফোর্সের স্বল্পতা থাকায় সহায়তার জন্য সরকার ৩,৪০৭ জন আনসার সদস্যকে বিভিন্ন সময় ডিএমপি’তে সংযুক্ত করেন। এইসব আনসার সদস্যরা ডিএমপি’র থানা, ফাঁড়ি, ট্রাফিক ও প্রটেকশন বিভাগ পুলিশকে সহায়তা করে আসছে। ডিএমপি’র প্রটেকশন বিভাগের ফোর্সের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে এবং একজন পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে আনসার সদস্যরা হাউজগার্ড, প্রটেকশন ও স্থাপনা নিরাপত্তার ডিউটিতে নিয়োজিত করা হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেউ কেউ তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য প্রত্যাহার করে পুলিশ সদস্য বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছেন। আনসার সদস্য প্রত্যাহার করা না হলে তাদের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে তলব করা হবে মর্মে সতর্ক করছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় আনসার প্রত্যাহার করে বেশি সংখ্যায় পুলিশ নিয়োজিত করার সক্ষমতা ডিএমপি’র এই মুহূর্তে নেই। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রুটিন ডিউটি এবং চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমও হুমকির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঠিক বিবেচনায় পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে চলমান মোতায়েন পদ্ধতি বহাল রাখাই যুক্তিযুক্ত হবে। চিঠি’র শেষে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, গত ২৫শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দিকনির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। মানবজমিন

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫