বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
নারী পাচার ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশে আইন থাকলেও সেটি সঠিক ভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। কিন্তু বিবিসি বাংলার প্রবাহ অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে তারা সব রকমের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেই হচ্ছে মানব পাচার। বিশেষ করে ওই সকল দেশগুলোতে নারী পাচারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা। এই দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
জানা যায়, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য নারীকে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশেগুলোতে পাচার করা হচ্ছে। যাদের বেশির ভাগেরই ঠাই হচ্ছে সেখানকার যৌনপল্লীতে।
এই বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী বলছেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশু পাচারে ও নির্যাতনে কঠর আইন থাকলেও সেটির সঠিক প্রয়োগের অভাবেই এ ধরণের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা তাদের নাম ঠিকানা অথবা কোথায় পাচার হয়েছে সেই স্থানগুলোও তারা বলতে পারছে না।
তিনি বলেন, আমরা ওই সকল যৌনপল্লী সম্পর্কে জানতে পারি যে, ওখানে অনেক অল্পবয়সের মেয়েরা থাকে। যাদে বয়স ১৩ কিংবা ১৪। ওদের আমরা যখন ফেরত নিয়ে আসি, তখন তারা কিন্তু তাদের বাড়ির নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারে না। এটা একটা বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তা প্রয়োগ হ”েছ না। যার ফলে বন্ধ হ”েছ না এইসকল অপকর্ম।
বাংলাদেশ সরকারের নারী ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি স্বীকার করেন, আমাদের দেশে নারী পাচার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকার শতভাগ সাফল্য পাচ্ছে না। তার পরেও এটি প্রতিরোধে সব রকমের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে পাচারের শিকার হওয়া নারীদের অনেক সময় উদ্ধার করা হলেও তাদের পুর্নবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই। এতেও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। যদিও এই বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক সচেতনতার অভাবেই এধরণের ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী।
এমতাবস্থায় সরকার বলছে ক্ষতিগ্রস্থ মেয়েরা যাতে ফিরে এসে নিজেরাই সাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেদিকেই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা মনে করেন, নারী পাচার বন্ধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ আর সরকারি বেসরকারি চেষ্টার পাশাপাশি সামজের সবার সচেতনতা জরুরি বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
