বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। রাজধানীর শ্যামপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির প্রায় ১৪ একর জায়গা ব্যবহার করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। অব্যাহত লোকসানের মুখে ২০০৫ সালে বন্ধ হয়ে যায় শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি। প্রায় এক যুগ পার হলেও ফ্যাক্টরিটি চালু করা উদ্যোগ না নেয়ায় যন্ত্রপাতি আর ভবনগুলো এখন ধ্বংসের পথে। দীর্ঘদিন থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় চাকরি হারিয়েছেন এখানকার হাজারো শ্রমিক। বকেয়া মজুরিও পাননি তারা। ফ্যাক্টরির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কিছু শ্রমিক এখনো ফ্যাক্টরিটি চালুর অপেক্ষায় আছেন।
এক শ্রমিক বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ২২ জন আছি। মালিকের খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের মাসিক বেতনটা দিচ্ছে। সেটা দেওয়াটাও উনার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, এই প্রতিষ্ঠানটাতে আবারো কর্মস্পৃহা ফিরে আসুক।’
আরেক জন বলেন, ‘এই জট কেন খুলছে না সেটা মালিক আর সরকারই জানে। শ্রমিকের পাওনা আর কি! তারা তো এমনিতেই আছে লোকসানের মধ্যে। এখন কারখানাটা খুললে হয়তো সমাধান একটা হতো।’
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ম্যাচ ফ্যাক্টরিটি চালু না করে বর্জ্য ব্যব¯’াপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জায়গাটিকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এজন্য ফ্যাক্টরির ৭০ ভাগ বেসরকারি মালিকানায় থাকা অংশীদারদের সাথেও আলোচনা হয়েছে বলে শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইঞা।
তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি সরকারের সাথে সহযোগিতা করবে। তাদের ৭০ শতাংশ শেয়ারই থাকবে। সেই হিসেবেই পরিচালিত হবে এটি। আর যদি বিদেশি অর্থ আসে তাহলে লাভ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদেরও অংশ থাকবে।’
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ফ্যাক্টরি পুরনো শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলেও জানান তিনি। -তথ্যসূত্র : সময় টিভি
