মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামে রাস্তা প্রস্থের নামে সন্ধ্যার আধারে বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পল্লী এলাকার ৮ ফিট রাস্তা ছিল পরে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) এর প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ প্রস্থ করা হলে মাত্র ২ ফিটের জন্য একটি পাঁকা ও একটি কাচা ঘর ভেকু দিয়ে ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করে ওই গ্রামের নজরুল ইসলাম মোল্লার বসতঘর। অতচ ওই বসতঘরের বিপরীত দিকে রাস্তার পাশে খালি জায়গা থাকা সত্তেও এ বসতঘর ভাংচুর করা হয়। শুধু ভাংচুর করে ক্ষান্ত হয়নি। এ বাড়ি এক গৃহবধূ আইরিনের গলার চেইন, কানের দোল ছিনিয়ে নেয়া হয়। ঘরে থাকা আলমারি ভাংচুর করে আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণ ও দুই লাখ টাকা লুট করা হয়। ভাংচুর করা হয় ঘরের আসবাবপত্র। এর মধ্যে রয়েছে দুটি আলমারী, দুটি খাট, একটি ড্রেসিন টেবিল ও দুটি চেয়ার।
এমন ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার ৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছাতিয়ানি বাজার সংলগ্ন পূর্ব পাশে। ছাতিয়ানি বাজার থেকে আটলাব বাজার (আলাউদ্দির টেক) প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা এলজিইডির প্রকল্পের আওতায় ১৬ ফিট প্রস্থ কার্পেটিং করা হবে। এ নির্মণাধীন এ রাস্তা সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে নজরুল ইসলাম মোল্লার বসতঘর। এ রাস্তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএসকে কনট্রাকশন। এর স্বত্ত্বাধীকার উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান কনক।
এ বসতঘর ভাংগার বিষয়ে পূর্ব থেকেই উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, চেয়াম্যান ও মেম্বারগণ নজরুল ইসলাম মোল্লাকে চাপ দিলে থাকেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম মোল্লা বৃদ্ধ এক গরিব কৃষক, বসতভিটেতে কেবল ১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তাঁর আর কোন জমি নেই, বিধায় ঘর রক্ষার জন্য তিনি গাজীপুর এডিএম কোর্ট এবং মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। তারপরও বসতঘর রক্ষা হলো না। অবশেষে কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক বসতঘরটি ভাংগা হয়।
নজরুল ইসলাম মোল্লার কন্যা শাহিনূর এ প্রতিবেদককে বলেন, আপোষে ঘর ভাংগার জন্য সাদা কাগজে স্থানীয় একটি চক্র স্বাক্ষর নিতে চায়। সেই ভয়ে আমার পিতা একমাস যাবত বাড়ি ছাড়া, আত্মগোপনে আছেন। আমরা রিক্সা দিয়ে বাজারে আসা-যাওয়া করতে পারছি না, আমাদেরকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দেয়; কেন ঘর ভাংগার আপোষ মিমাংসার কাগজে স্বাক্ষর করছি না। শাহিনূর আরো বলেন, সরেজমিনে ঘরভাংগা কাজে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বুলবুল ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সাহিদা বেগম। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে দেরিতে হলেও থানা থেকে দু’জন পুলিশ উপস্থিত হয়।
গত শুক্রবার ৪ আগস্ট দুপুরে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে গেলে বাড়ির লোকজন এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, বসতঘর ভাংগার ব্যাপারে আমি জানি না। খতিগ্রস্থ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
রাস্তার ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম কনক বলেন, আমার সাইটের কাজ বন্ধ। আমি কিচ্ছু জানি না। তবে স্থানীয় ভাবে মেম্বারদের সাথে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছে। এলাকার কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে ঘর ভাংচুর করেছে।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বুলবুল বলেন, আমার পরিষদের চেয়ারম্যান ফোন করে বলেছেন উপজেলা থেকে লোকজন আসবে তুমি ওখানে থেকে ঘর ভাংগার অভিযানে উপস্থিত থাকবা। আর উপজেলা থেকেও আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন ঘর ভাংগার অভিযানে উপস্থিত থাকতে, আমি উপস্থিত ছিলাম ঠিক আছে, তবে আমি বুঝে উঠতে পারি নাই। এখন মনে হয় আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার লুটপাটের বিষয়ে বলতে পারবো না, তবে পুলিশ ঘটনা স্থলে আসলে আমি একটি মোবাইল উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে তাদের দিয়ে দেই।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার গাজীকে আজ শনিবার দিবাগত রাত ১০:১০টায় একাধিক বার মোবাইল ফোনে কল দিলে রিং হলোও তিনি রিসিভ করেন নি।
